চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোক্তার হোসেন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নগরের বড়পোল এলাকায় ভোলাগামী একটি বাসের কাউন্টার থেকে তাকে আটক করা হয়।
মোক্তার কুমিল্লার তিতাস থানাধীন দক্ষিণ বলরাম পুরের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারি হিসেবে পরিচিত আটক মোক্তার।
শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, পূর্বশক্রুতার জের ধরে সুদীপ্ত খুন হয়েছেন। সুদীপ্তের শক্রুদের আহ্বানে সক্রিয়ভাবে খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মোক্তার। খুনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম মোক্তার প্রকাশ করেছে। নামগুলো যাচাইবাছাই করছি।
তিনি বলেন, কোন্দল নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে খুনের বিষয়টি ইতিমধ্যে উঠে এসেছে। তবে এই একটি কারণে শত্রুতা, তা নয়। একাধিক কারণ আছে। সব কারণই আমরা খতিয়ে দেখছি। এ ঘটনার তদন্তে রাজনৈতিক চাপ নেই।
ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্তদের বাসা চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায়। গত ৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দুই যুবক বাসায় এসে সুদীপ্তকে জানান, তার এক বন্ধুর বাবা মারা গেছেন। খবরটি শুনেই তাদের সঙ্গে বেরিয়ে যান তিনি। এর ১০ মিনিট পর চিৎকার শুনে তার মা টিনের ঘরের বাসা থেকে বেরিয়ে গলির মুখে যান। বাসা থেকে ওই পথের দূরত্ব প্রায় ১০০ ফুট। সেখানে ছেলেকে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনের বিরুদ্ধে সুদীপ্তর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস মামলা করলেও পুলিশ সূত্র বলছে, ঘটনায় জড়িত অনেকেই।
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারীরা সুদীপ্ত হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
হত্যাকাণ্ডে সাত-আটজন সরাসরি অংশ নিলেও ঘটনাস্থলের অদূরে নিউমার্কেট মোড় ও কালীবাড়ি মন্দির মোড়ে আরও ৩০-৩৫ জন ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।