মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

‘কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বাঁশখালীর সাংসদ’

| প্রকাশিতঃ ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭:০৭ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ কবির লিটন। রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ অভিযোগ করেন।

গত ৯ নভেম্বর বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই দিন লিটন ও তার অনুসারীদের ওপর সাংসদ মোস্তাফিজুরের অনুসারীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ আছে। এতে অন্তত ২৪জন গুলিবিদ্ধ হন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ কবির লিটন বলেন, টিআর ও সরকারি প্রকল্প থেকে পিএস তাজুলের মাধ্যমে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর লাগামহীন অর্থলুট করছেন। ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করছেন। যা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে দলের আশ্রিতদের মনোনয়ন দিয়েছেন।

৯ নভেম্বরের দিনের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাড়ির কাছেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ভাড়াটিয়া ডাকাত নিয়ে চাচা রশিদ আহমদ এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী তাজুল ইসলাম আমার গাড়ি বহর এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে চতুর্দিক থেকে গুলি বর্ষণ করে। পরে তারা সাংসদের বাড়ির দিকে চলে যায়।

হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিও বাতিলের দাবি জানিয়ে লিটন বলেন, চট্টগ্রামের রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আওয়ামী লীগের সাংসদ হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলায় আমরা তৃণমূল আওয়ামী লীগ পরিবার ধিক্কার জানাচ্ছি।

লিটন অভিযোগ করেছেন, সাংসদ মোস্তাফিজের জামায়াত তোষণ নীতির কারণে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর রায়ের পর তান্ডবে দয়াল হরি হত্যা হয়েছে। এছাড়া একই কারণে নাশকতা মামলার আসামিদের মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে যাতে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ আছে। বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের মিশনে নেমেছেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর বিকালে বাঁশখালী পৌর সদরের অদূরে সরল ইউনিয়নের পাইরাং এলাকায় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ কবির লিটনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রয়াত আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় যাচ্ছিলেন লিটন। এই ঘটনায় সংসদ সদস্যের চাচা ও ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরী ও পিএস তাজুল ইসলামকে আসামি করে লিটনের অনুসারী আনিসুল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।