বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

২৩ দিন ধরে সাগর উত্তাল, মাছ ধরতে না পেরে সংকটে জেলেরা

ঘাটে বাঁধা হাজারো ট্রলার, হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৫ জুলাই ২০২৫ | ৮:২৮ পূর্বাহ্ন


টানা ২৩ দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় ইলিশের ভরা মৌসুমেও মাছ শিকারে যেতে পারছেন না চট্টগ্রামের জেলেরা। মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সাগরে নামলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিন দিনের মাথায় কূলে ফিরতে বাধ্য হয় হাজারো ট্রলার ও ফিশিং ভ্যাসেল। এতে এই খাতে বিনিয়োগ করা হাজার হাজার কোটি টাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার জেলে।

গত ১১ জুন মধ্যরাতে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে জেলেরা উৎসবমুখর পরিবেশে সাগরে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই সাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে।

একটি ফিশিং ভ্যাসেলের একজন মাস্টার জানান, “গত ১৪ জুন রাতে সাগরের যে তাণ্ডব দেখে ফিরে এসেছি, তা বর্ণনাতীত। একেকটি ঢেউ পাহাড়ের মতো, পুরো জাহাজ নাগরদোলার মতো দুলছিল। জাল ফেলে মাছ শিকার তো দূরের কথা, জীবন বাঁচাতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। এরপর গত ২৩ দিন ধরে অলস বসে আছি।”

এই অচলাবস্থার কারণে কর্ণফুলী নদীর উজানে এবং আনোয়ারা, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ ও কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় এলাকায় কয়েক হাজার মাছ ধরার জাহাজ ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে নোঙর করে আছে।

ফিশিং ভ্যাসেলের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কখন ঠিক হবে জানি না। ভর মৌসুমে মাছ শিকার করতে না পারায় আমাদের মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলোও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

আরেক ট্রলার মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, “গত প্রায় তিন মাস জাহাজের নাবিক ও জেলেদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। জাহাজগুলোতে কয়েক কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে। ঋণের সুদ গুনতে গুনতে আমরা দিশেহারা।”

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের মাছের বাজারগুলোতেও। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ নেই বললেই চলে। বাজারে পুরোনো হিমায়িত ইলিশ কেজিপ্রতি ১৭শ’ থেকে ১৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে ক্রেতাও তেমন নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা আবহাওয়া বিভাগের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, সাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ ও শক্তিশালী বায়ুচাপের প্রভাবে এই উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।