বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ফটিকছড়িতে ‘বসা অবস্থায় ঝুলন্ত’ লাশ, ছেলে-ভাইয়ের পরস্পরকে দোষারোপ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৫ জুলাই ২০২৫ | ৮:০৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিজ বসতঘর থেকে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য তৈরি হয়েছে। নিহতের ছেলে এবং ভাই এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।

শনিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ছালেহ আহমেদ ড্রাইভারের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জাহাঙ্গীর আলম পেশায় চালক হলেও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে জাহাঙ্গীরের মা লায়লা বেগম তাকে নাস্তা দিতে গিয়ে ঘরের দরজা-জানালা খোলা দেখতে পান এবং তার ছেলেকে ‘বসা অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো’ অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে পুলিশে খবর দেন।

তবে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ফটিকছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, শোয়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করেছি। লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে পরিবারের লোকজন তার ঝুলন্ত অবস্থার একটি ছবি সরবরাহ করেছে।”

এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে নিহতের প্রথম স্ত্রীর ছেলে মো. শাহাদাত ইসলাম বলেন, “আমার বাবাকে কেউ মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। পারিবারিক জায়গাজমি নিয়ে বিরোধের কারণে চাচারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার চাই।”

অন্যদিকে, নিহতের ছোট ভাই মো. আলমগীর আলম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “তার নিজ সন্তানেরাই তাকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে। আমি বাড়িতে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ পুলিশকে দিয়েছি। আমি ভাই হত্যার বিচার চাই।”

জানা গেছে, নিহত জাহাঙ্গীর আলমের দুই স্ত্রী এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।

খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. তারেক আজিজ ও ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওসি নূর আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। পরিবারের লোকজন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”