বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ফটিকছড়ি: ‘মৌখিক অনুমতিতে’ সড়কের গাছ কাটলেন প্রধান শিক্ষক

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৬ জুলাই ২০২৫ | ২:১২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়কের পাশ থেকে প্রায় ৪০টি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. হারুন উর রশীদ উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের পশ্চিম ইদলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্র ও শনিবার ফটিকছড়ি-হেঁয়াকো প্রধান সড়ক থেকে হালদা ভ্যালি চা-বাগান সংযোগ সড়কের পাশে থাকা প্রায় ৪০টি ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ কেটে ফেলেন ওই প্রধান শিক্ষক। পরে তিনি গাছগুলো ‘পালসার নাসির’ নামে পরিচিত স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. হারুন উর রশীদ গাছ কাটার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “সড়কটির পাশে আমার পৈতৃক জমি রয়েছে এবং বহু বছর আগে আমার পরিবারই গাছগুলো রোপণ করেছিল। আমি ‘মৌখিকভাবে’ বন বিভাগের লোকজনকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কাগজে-কলমে যে অনুমতি লাগবে, সেটি বুঝিনি। এটা আমার অপরাধ হয়েছে।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি সড়কের গাছ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “সরকারি গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু তিনি (প্রধান শিক্ষক) কাউকে না জানিয়ে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।”

উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, “বিধি অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে সরকারি সড়কের গাছ কাটার কোনো নিয়ম নেই। এর জন্য বন বিভাগের ছাড়পত্রসহ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসান মুরাদ চৌধুরী বলেন, “একজন শিক্ষক হয়ে তিনি এমন গর্হিত কাজ করতে পারেন না। এটি মোটেও ঠিক হয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”