
ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কটূক্তি’ করার অভিযোগে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থী ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের ছাত্র।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ২০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
একইসঙ্গে, তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ওই শিক্ষার্থী কোনো জবাব না দেওয়ায় গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) শৃঙ্খলা কমিটির ২৯২তম সভায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১৯ জুন ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে পরদিন তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাকে প্রথমে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হলেও ওই শিক্ষার্থী কোনো জবাব দেননি। তাই তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে তিনি আরও জানান, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী চাইলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বরাবর এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।