মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

৮ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৭ অগাস্ট ২০২৫ | ৭:৫৭ অপরাহ্ন


বাণিজ্যিক মোটরযানের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। আগামী ১১ অগাস্টের মধ্যে দাবি মানা না হলে ১২ অগাস্ট ভোর ৬টা থেকে সারা দেশে একযোগে এই ধর্মঘট পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডে এক বিভাগীয় সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা যোগাযোগ উপদেষ্টার কাছে আট দফা দাবি জানিয়েছি। তিনি দুটি দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আমরা বলেছি, সব দাবি মানতে হবে। আগামী ১১ অগাস্ট বিকেলের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে ১২ অগাস্ট ভোর ৬টা থেকে ১৫ অগাস্ট ভোর ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে।”

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর দুটি ধারাকে ‘নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইনের ৯৮ ও ১০৫ ধারায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় চালকের জামিন মিলবে না এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। আমরা বলছি, দুর্ঘটনার জন্য মামলা হতে পারে, আদালত সাজা দিতে পারেন। কিন্তু জামিন পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার আদালতের। আইনে জামিন নিষিদ্ধ রাখা উচিত নয়।”

বাণিজ্যিক যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিয়েও কথা বলেন তিনি। “২০ বছর পূর্ণ হওয়া গাড়িগুলো ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে। এতে ৮০ শতাংশ গাড়ি রাস্তা থেকে উঠে যাবে। আমাদের দাবি, যেসব গাড়ির ফিটনেস আছে, সেগুলোকে চলতে দিতে হবে।”

তাদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮–এর ৯৮ ও ১০৫ নম্বর ধারা সংশোধন করা; পুরোনো বাণিজ্যিক যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে ৩০ বছর করা এবং তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো গাড়ির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান স্থগিত রাখা। একইসাথে বাজেটে বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর আরোপিত দ্বিগুণ অগ্রিম আয়কর কমিয়ে আগের মতো বহাল করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের জন্য স্ক্র্যাপ নীতিমালা প্রণয়ন করা।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রাস্তা থেকে সরানোর জন্য সহায়ক হিসেবে বাণিজ্যিক রিকন্ডিশন যানবাহন আমদানির সময়সীমা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকের জিম্মায় দেওয়ার বিধান কার্যকর করা, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন ও অনুমোদনহীন হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর করে শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা বাস্তবায়ন করা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সভাপতি মোরশেদুল আলম কাদেরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হুমায়ুন কবির খান, একরামুল করিম, হুমায়ুন কবির সোহেল, মহিউদ্দিন, নূর ইসলাম, ফারুক খান, মো. শাহজাহান, রবিউল মওলা, মূসা ও আজিজুল হকসহ বিভিন্ন জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।