সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ঘরে ফেরা হলো না: ওমানেই শেষ হলো রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর স্বপ্নযাত্রা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ৭:০৮ অপরাহ্ন


পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে হাজারো স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা পাড়ি দিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। কিন্তু ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। সপ্তাহ না ঘুরতেই দুজনের জীবনপ্রদীপ নিভে গেল দুই ভিন্ন ঘটনায়। একজন অসুস্থতার কাছে হার মেনে দেশের মাটিতে ফেরার শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, অন্যজনের প্রাণ কেড়ে নেয় আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনা। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়।

এই দুই দুর্ভাগা প্রবাসী হলেন উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের মোহাম্মদ ফারুক (৩৫) এবং পারুয়া ইউনিয়নের ময়ূর উদ্দিন (২২)। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে নিজ নিজ গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

দেশে ফেরা হলো না ফারুকের

প্রায় দশ বছরের প্রবাসী জীবন মোহাম্মদ ফারুকের। দেড় বছর আগে দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে আবার ফিরে গিয়েছিলেন কর্মস্থল ওমানে। স্বপ্ন ছিল, আরও কিছুদিন উপার্জন করে সন্তানদের জন্য একটা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু তার শরীরে বাসা বেঁধেছিল জটিল রোগ।

ওমানপ্রবাসী জামাল উদ্দিন জানান, ফারুকের লিভারে সমস্যা ধরা পড়লে সহকর্মীরা তাকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দরে পৌঁছেও গিয়েছিলেন তিনি। পরিবার ও সন্তানেরা অপেক্ষায়, আর কয়েক ঘণ্টার ব্যবলেই দেখা হবে। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হয়নি।

বিমানবন্দরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ফারুক। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে গত শনিবার রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। যে বিমানবন্দর ছিল তার ঘরে ফেরার পথ, সেটাই হয়ে রইল শেষ গন্তব্য। ফারুকের স্ত্রী ও দুই অবুঝ সন্তান এখন তাদের প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় নয়, অপেক্ষা করছে তার নিথর দেহের জন্য।

সড়কে মিশে গেল ময়ূরের স্বপ্ন

মাত্র ২২ বছর বয়স ছিল ময়ূর উদ্দিনের। চার ভাই-বোনের সবার ছোট, পরিবারের আদরের সন্তান। প্রায় তিন বছর আগে ওমানে পাড়ি জমান পরিবারের হাল ধরতে। মাত্র চার-পাঁচ মাস আগেই দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে ফিরেছিলেন। কে জানত, সেটাই হবে পরিবারের সাথে তার শেষ দেখা।

ময়ূরের বড় ভাই আবদুল শুক্কুর জানান, গত বৃহস্পতিবার কর্মস্থলের আরবাবের কাছে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন ময়ূর। গাড়ি উল্টে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। যে বয়সে দেশ ও পরিবার নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই এক নিমিষের দুর্ঘটনায় সব স্বপ্নের ইতি ঘটল।

এখন দুটি পরিবারই তাদের প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফারুক ও ময়ূরের এই করুণ মৃত্যু প্রবাসী জীবনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির নির্মম বাস্তবতাকেই যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।