
স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মো. ফেরদৌস নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন শারমিন আক্তার নামে এক নারী।
তবে তার উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত স্বামী ফেরদৌস ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
সোমবার সকাল থেকে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও গ্রামে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন শারমিন আক্তার। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।
ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার চট্টগ্রাম নগরীর জালালাবাদ এলাকার আবু তৈয়বের মেয়ে। অভিযুক্ত মো. ফেরদৌস বৈলগাঁও গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে। তিনি সাধনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য।
শারমিন আক্তার জানান, ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল তাদের প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন কাজী নেজাম উদ্দীন। বিয়ের পর ফেরদৌস তাকে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় রাখতেন কিন্তু কিছুদিন পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ২০২৪ সালে তালাক দেন।
শারমিনের অভিযোগ, পরে স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেরদৌস তাকে পুনরায় বিয়ে করেন। কিন্তু কিছুদিন পর আবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তাকে ‘পতিতাবৃত্তিতে জড়ানোর’ জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ফেরদৌস তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
অবস্থানরত শারমিন আক্তার বলেন, “আমাকে যদি স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত মো. ফেরদৌসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে. এম. সালাহউদ্দিন কামাল জানান, শারমিন আক্তার ফোনে তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”