
চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রধান ডাকঘরের সামনের জায়গা ‘অস্বচ্ছ’ প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এর আগে এই বিতর্কিত ইজারা বাতিলের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
পটিয়া পোস্টমাস্টার তাজুল ইসলাম বুধবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারায় ওই জায়গায় স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল শরীফ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, “ডাকঘরের সীমানার ভেতরের অংশ জেলা পরিষদ ইজারা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার রাখে না। এটি প্রশাসনিকভাবে ভুল এবং সরকারি সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ।”
যেভাবে বিতর্কের শুরু
সম্প্রতি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন প্রায় ৬ ফুট প্রস্থ ও ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি জায়গা ইজারা দেওয়া হয়, যা পটিয়ার ‘আইকনিক ভবন’ হিসেবে পরিচিত ডাকঘর ভবনের সামনে অবস্থিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র তিন দিনের মধ্যে ইজারা চূড়ান্ত করা হয়, যা একটি ‘প্রহসনমূলক’ প্রক্রিয়া।
এই ইজারা বাতিলের দাবিতে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য বদরুল খায়ের চৌধুরী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী।
পরে বিকেলে পটিয়া ডাকঘরের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বদরুল খায়ের চৌধুরী বলেন, “এই ইজারা শুধু জায়গা দখলের বিষয় নয়, এটি প্রশাসনিক দুর্নীতির ইঙ্গিত। জেলা প্রশাসন চাইলে একদিনেই এই অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাহেদুল হক আল্লাই, ইদ্রিস পানু, বাহাদুর খাদেমী, আবদুল বারেক, আবছার উদ্দিন সোহেল এবং রিদুয়ান সিদ্দিকী।