
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই পুকুর ভরাট করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে চার ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত এনফোর্সমেন্ট মামলা নং-২২/২৬ মূলে এই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশপ্রাপ্ত অভিযুক্তরা হলেন—কে বি আমান আলী রোড এলাকার জাবেদুল আলম, আইয়ুব আলী, খোরশেদ আলম এবং ডা. ফরহাদুল আলম।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর চকবাজার থানার কে বি আমান আলী রোডের বড় মিয়ার মসজিদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি পুকুর বা জলাশয় ভরাটের কাজ চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ওই স্থানে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায়, ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)’ এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩’ লঙ্ঘন করে অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই জলাশয়টি ভরাট করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধনের দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আরোপ, প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তার ব্যাখ্যা দিতে অভিযুক্তদের আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা ১২টায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে শুনানির জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। শুনানির সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একতরফা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, “বড় মিয়ার মসজিদের পশ্চিম পাশে ওই পুকুরটি ভরাট করার কারণে আগে আমরা ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলাম। কিন্তু এরপরও তারা পুকুর ভরাট অব্যাহত রাখে। আমাদের একটি টিম সেখানে গিয়ে পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়ায় তাদেরকে আজকে নোটিশ করা হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি তারা হাজির হলে তাদেরকে অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে, যেহেতু মামলা একটি চলমান রয়েছে।”