সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ভোটাধিকার রাষ্ট্রের আমানত, বেইমানি করলেই কঠোর ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম ডিসি

‘অতীতের গ্লানি মোচনের সুযোগ এটি, ব্যর্থ হওয়া যাবে না’
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১১:১৩ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মানুষের ভোটাধিকার রাষ্ট্রের একটি আমানত এবং এই আমানতের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি প্রশাসন বরদাশত করবে না।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচন কেবল একটি রুটিন কাজ নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মুহূর্ত। অতীতের নির্বাচনগুলো নিয়ে জনমনে যে নেতিবাচক ধারণা বা গ্লানি রয়েছে, তা মোচনের এটাই সেরা সুযোগ। জনগণের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের প্রত্যাশা একটাই—একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমাদের সবাইকে উত্তীর্ণ হতে হবে।

নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো দুষ্কৃতকারী বা সন্ত্রাসী নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন যেকোনো স্থানে পৌঁছাতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা, সুরক্ষা অ্যাপ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থাকার নির্দেশ দিয়ে রিটার্নিং অফিসার বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পর ব্যক্তিগত মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নির্বাচন কমিশন নেবে না। গণভোট বিষয়ে ভোটারদের কোনো প্রশ্নের জবাবে ‘আমি জানি না’ বলা গ্রহণযোগ্য হবে না। দায়িত্ব নেওয়ার অর্থই হলো বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা এবং ভোটারকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলা।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৯২টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ৯২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ২২০ জন পোলিং অফিসার অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, গণভোট পরিচালনার পদ্ধতি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।