সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম-৮: ভোটের মাঠে দাপট জামায়াত নেতার, বেকায়দায় এনসিপি

মানুষ আমাকে ঘর থেকে বের করে এনেছে: ডা. নাসের
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২:৫৭ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী আংশিক) আসনে ১১ দলীয় জোটের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এই আসনে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়ন পেলেও মাঠে ছাড় দিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা ডা. আবু নাসের ও তার অনুসারীরা।

কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এনসিপি প্রার্থী আরিফকেই জোটের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ তুলে দিয়েছেন। কিন্তু জোটের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও ‘জনগণের চাপ’কে পুঁজি করে মাঠে নেমেছেন ডা. আবু নাসের।

জানা গেছে, জোটের প্রতি সম্মান জানিয়ে গত ৮ দিন প্রচারণায় নামেননি ডা. নাসের। এমনকি গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে জামায়াত আমীরের সমাবেশেও তাকে দেখা যায়নি। কিন্তু গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে তিনি আবারও বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। জামায়াত ও শিবিরের পদধারী নেতারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তার সঙ্গে সরাসরি না থাকলেও, তার বিশাল ব্যক্তিগত অনুসারী বলয় তাকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠ গরম করে রেখেছে।

নির্বাচনী মাঠে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থীর স্থানীয় অবস্থান। এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের বাড়ি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সাতকানিয়ায়। জাতীয় নাগরিক পার্টির এই কেন্দ্রীয় নেতাকে স্থানীয় ভোটাররা ‘বহিরাগত’ হিসেবেই দেখছেন। ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন ভোটারের এই বিশাল আসনে তিনি অনেকটাই অচেনা মুখ। খোদ এনসিপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিফের বিরোধিতা করছেন।

অন্যদিকে, বোয়ালখালীর বাসিন্দা ডা. আবু নাসের গত দেড় বছর ধরে এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প, উঠান বৈঠক ও সামাজিক সহায়তা দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। চিকিৎসক নেতা ও বিভিন্ন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা গড়ে উঠেছে।

হঠাৎ মাঠে নামার বিষয়ে ডা. আবু নাসের বলেন, “১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের কারণে আমি গত ৮ দিন কোনো প্রচারণায় বের হইনি, বাসাতেই ছিলাম। কিন্তু বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও এলাকার সাধারণ মানুষ আমাকে জোর করে বাসা থেকে বের করে এনেছে। আমি এই জনপদ ছেড়ে কোথায় যাব? তাদের মায়া আমি ত্যাগ করতে পারব না। তারাই আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করছে।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। তবে এই আসনে ডা. আবু নাসেরের প্রতি জনগণের যে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, তার বিরোধিতা করার শক্তিও আমাদের নেই।”

মাঠের এই প্রতিকূল পরিস্থিতি ও নিজ দলের ভেতর বিরোধিতার বিষয়ে জানতে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।