সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ‘মোমবাতি’র প্রচারণায় হামলা: ৭ আসনে বাধার অভিযোগ ইসলামী ফ্রন্টের

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৫:৫৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট তথা সুন্নি জোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দলটির নেতাদের দাবি, মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে জনজোয়ার দেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভীত হয়ে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীর মোমিন রোডে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি আব্দুর নবী আল কাদেরী।

লিখিত বক্তব্যে আল কাদেরী অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে নিয়মিতভাবে মোমবাতির ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। গত ৩১ জানুয়ারি কাগতিয়া বাজারে প্রার্থী ইলিয়াছ নূরীর প্রচারণায় সরাসরি হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা মাইক ছিনিয়ে নিয়েছে, যার ভিডিও ভাইরাল হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

একইভাবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রার্থী ইকবাল হাসানের গণসংযোগে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও মোমবাতির প্রার্থী সোলায়মান ফারুকীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনেও গণসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

হামলাকারীদের পরিচয় ও এজেন্টদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইসলামী ফ্রন্টের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি আবদুর রহিম মুনিরী বলেন, “যারা এসব করছে, তাদের সবার ছবি আমাদের কাছে আছে। যেহেতু তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যানারে হামলা করছে না, তাই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, “রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে আমাদের দলীয় এজেন্ট হিসেবে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে, তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়:
১. প্রার্থীদের ওপর হামলা ও প্রচারণায় বাধাদানকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. পেশিশক্তির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা।
৩. সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৪. আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সহিংসতার ঘটনা তদন্তে নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিশেষ তদন্ত সেল গঠন করা।

নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সুন্নি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সন্ত্রাস বা ভয়ভীতি দেখিয়ে এই জনজোয়ার থামানো যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইউনুস তৈয়বী যুক্তিবাদী ও সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন প্রমুখ।