সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কুতুবদিয়া ও মহেশখালীকে সিঙ্গাপুরের আদলে গড়ার প্রতিশ্রুতি ডা. তাহেরের

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৬:০৭ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট কক্সবাজার-২ আসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ এ অঞ্চলটিই দেশের অর্থনীতি ও ভৌগোলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বে সিঙ্গাপুর একটি দ্বীপ রাষ্ট্র হয়েও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সিঙ্গাপুরের সকল উপাত্ত এ অঞ্চলের কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে রয়েছে। আগামীতে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে এ দুটি দ্বীপকে ভিন্ন ভিন্নভাবে এক একটি সিঙ্গাপুরের আদলেই গড়ে তোলা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ বাজার সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. তাহের বলেন, দেশের সব ইসলামিক দল আমাদের সাথে রয়েছে, চব্বিশের জুলাইয়ের বিপ্লবীরা আমাদের সাথে রয়েছে, একাত্তরের বিপ্লবীরাও আমাদের সাথে রয়েছে। সবগুলো যোগ করলেই আমরাই দেশের বড় দল। একদিকে একটি দল, আরেক দিকে সারা বাংলাদেশ। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত হাজার লক্ষ মানুষের ঢল ১১ দলীয় জোটের পক্ষে আল্লাহর মেহেরবানীতে সংগঠিত হয়েছে। যদি একটি নিরাপদ উন্নত বাংলাদেশ চান তাহলে ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেবেন। আমরা জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

জনসভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ৫ আগস্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা আজকে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছি। আজকে স্বাধীনভাবে কথা বলছি, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কথা ভাবছি। কিন্তু একটি দল ভুলে গিয়েছে, তারা আজকে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোট চাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের ফলেই এ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সারাদেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। শুধুমাত্র আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিজমস ও দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে দেশকে দখলমুক্ত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। দিল্লি থেকে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। বাংলাদেশে ওই দিল্লির অনুগত সরকার আর বসতে পারবে না। আগামী বাংলাদেশকে দখলমুক্ত করতে ১২ তারিখ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমিন ও জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহারসহ জেলা-উপজেলার ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা নতুন বাংলাদেশ ও নতুন কুতুবদিয়া তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়নে জোট প্রার্থীকে বিজয়ী করার উদাত্ত আহ্বান জানান।