
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আইনি লড়াই ও নাটকীয়তা নতুন মোড় নিয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে নির্বাচনে তিনি জয়ী হলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব হবে না বলে দাবি করেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের আইনজীবী প্যানেল।
সংবাদ সম্মেলনে মূল ব্রিফিং করেন প্রার্থী নুরুল আমিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গণি। তিনি জানান, চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধতার চ্যালেঞ্জ করে নুরুল আমিনের দায়েরকৃত আপিল সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করেছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ দেন।
অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, সর্বোচ্চ আদালতে দায়েরকৃত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর নির্বাচিত হলেও তার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা আইনত সম্ভব নয়। আমরা নির্বাচনী আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারো রক্তচক্ষু বা হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। জনগণ বুঝে গেছে কে ভালো আর কে মন্দ।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে প্রভাবিত হয়ে সরোয়ার আলমগীরের প্রতীক বরাদ্দ ও মনোনয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়িবাসীর পাশে আছি। কিন্তু কোনো ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাত, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজকে আর চলতে দেওয়া হবে না। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে দেড় শতাধিক মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। পক্ষান্তরে জনগণের আমানত রক্ষায় তার (বিএনপি প্রার্থী) বিরুদ্ধে মাত্র একটি মামলা করে আমি আজ ‘মামলাবাজ’ হয়ে গেলাম। এর বিচার আমি ফটিকছড়িবাসীর কাছে দিলাম।
তিনি আরও বলেন, আমাকে মামলাবাজ বলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করে তাদের অন্তর থেকে আমাকে দূরে রাখা যাবে না। জনগণ সব জানে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নুরুল আমিনের আসন পরিচালক আব্দুল জব্বার, আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গণি, অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট হাবিবুল্লাহ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আসন কমিটির সদস্য ও সদস্য সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আসন কমিটির সদস্য ইউসুফ বিন সিরাজ, আবু জাফর এবং নবীর হোসেন মাসুদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।