সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় ৫ তারিখের সেমাইয়ে ৬ তারিখের সিল, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১১:৪৮ অপরাহ্ন


উৎপাদন হয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি, অথচ প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ লেখা হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ উৎপাদনের আগেই ‘আগামীকালের’ তারিখ দিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছিল। পাশাপাশি ছিল না বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদনও। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এমন অভিযোগে একটি সেমাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বায়তুল ইজ্জত এলাকার গ্রীন টাচ কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত ‘মেসার্স এম. আলী মেজর ফ্লাওয়ার মিল’ নামক প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে গিয়ে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যায় মোড়কীকরণে। সেমাইয়ের প্রকৃত উৎপাদন তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি হলেও প্যাকেটে একদিন বাড়িয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মতে, উৎপাদনের প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভিন্ন তারিখ ব্যবহার করা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, খাদ্যপণ্যে তারিখ জালিয়াতি এবং বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া উৎপাদন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করার অপরাধে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় সাতকানিয়ায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।