সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে ইইউ পর্যবেক্ষক দল: নারী কর্মীদের হেনস্থার অভিযোগ প্রার্থী জিন্নাত আক্তারের

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে ইউএনওকে ইইউ পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১২:২১ অপরাহ্ন


আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের দুই সদস্য। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর তারা ফটিকছড়িতে অবস্থান করে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ইইউ প্রতিনিধি দলের দুই সদস্য হলেন সার্সেন জেন্ডল এবং ম্লেডেন কোভাসবিকে।

দিনব্যাপী এই সফরে তারা ভার্চুয়ালি এবং সরাসরি একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা এলাকার সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ, রাজনৈতিক দলগুলোর গণসংযোগ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। বিশেষ করে উপজেলার একমাত্র নারী প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিন্নাত আক্তারের সঙ্গে তারা একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকে নারী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইইউ প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরে অ্যাডভোকেট জিন্নাত আক্তার বলেন, তিনি আইন-কানুন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং তার নারী কর্মীরাও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বিভিন্ন এলাকায় নারীরা অবমাননা ও শারীরিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, যা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব বিষয় তিনি পর্যবেক্ষকদের জানিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেন।

প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর দুপুরে ইইউ প্রতিনিধিরা ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় তারা নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করেন।

বৈঠক শেষে ইউএনও সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, ইইউ প্রতিনিধিরা সেন্টারের প্রস্তুতি এবং রাস্তাঘাট ঠিক আছে কি না তা জানতে চেয়েছেন। ভোটের দিন মানুষ চলাচলের জন্য কী যানবাহন ব্যবহার করবে, মানুষের আসতে কোনো অসুবিধা হবে কি না, সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না—সেসব বিষয়েও তারা প্রশ্ন করেছেন। এছাড়া ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মান কেমন ছিল, নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, কোন কোন বাহিনী মোতায়েন হয়েছে এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়োজিত হয়েছে কি না—এসব খুঁটিনাটি বিষয়ও তাদের আলোচনার অংশ ছিল। ইউএনও জানান, সব বিষয়ে তিনি তাদের সন্তোষজনক জবাব দিয়েছেন।

সফরকালে ইইউ প্রতিনিধি সার্সেন জেন্ডল ও ম্লেডেন কোভাসবিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর সঙ্গে সশরীরে অথবা মুঠোফোনে কথা বলেন এবং তাদের বক্তব্যের নোট নেন। পরে বিকেলে তারা ফটিকছড়ি ত্যাগ করেন।