সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

এখন থেকেই ভোটের পাহারাদারি শুরুর নির্দেশ জামায়াত আমিরের

মোবাইল নিষেধাজ্ঞা না তুললে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩:৩১ অপরাহ্ন


ভোটচোর বা জালিয়াতরা যেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য এখন থেকেই ভোটের মাঠে পাহারাদারি শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, বিজয়ের মালা গলায় না পরা পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবেন না।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম।

শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ১১ দল একত্রিত হয়েছে। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও মামলাবাজদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তাই জনতার বিজয় সুনিশ্চিত।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ও ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় অপরাধ ঢাকতে যেমন ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল, তেমনি এখন অন্ধকার গলিপথে নির্বাচন কমিশন হাঁটার চেষ্টা করছে। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতর রেকর্ডিং যন্ত্র নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি নাহিদ ইসলামের দেওয়া আল্টিমেটামের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা হলে আগামীকাল থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে। আর এর দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।

একটি পক্ষ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এখন চোরাই পথে নির্বাচন হাইজ্যাক করার পাঁয়তারা করছে। তবে জুলাই যোদ্ধারা এখনো জেগে আছেন এবং সব অপকর্ম প্রতিহত করা হবে।

প্রশাসনের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, সরকারের কিছু আমলা ও সচিব এখনো দলবাজি করছেন। অতীতে অপরাধ করে ক্ষমা পেলেও ভবিষ্যতে আর ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচিত হলে কোনো দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের সরকার কায়েম করা হবে।

ঢাকা-১৩ আসনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, এই এলাকাটি মাদক, চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যে জর্জরিত। এখানকার যুবসমাজকে বিপথগামী করা হয়েছে। রিকশা প্রতীককে জুলাই আকাঙ্ক্ষা ও গণমানুষের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশে জামায়াত আমির ঘোষণা দেন, ১১ দল বিজয়ী হলে মামুনুল হককে মন্ত্রী করা হবে। তিনি বলেন, মামুনুল হক সংসদে গিয়ে শুধু ঢাকা-১৩ নয়, সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ও ইনসাফের পক্ষে কথা বলবেন।

সমাবেশে মাওলানা মাহফুজুল হক, মো. নাহিদ ইসলাম এবং মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের অন্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।