সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আদর্শিক এলাকা গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান শাহজাহান চৌধুরী

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭:০৮ অপরাহ্ন


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় ব্যাপক শোডাউন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। সোমবার বিকেলে সাতকানিয়া হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে তিনি নিজেকে এলাকাবাসীর সন্তান উল্লেখ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। বিগত দিনে নিজের কারাভোগ ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি এলাকাটিকে একটি আদর্শিক মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, তিনি গত ৪২ বছর ধরে এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অসহায় ও নিরন্ন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্দোলন করতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে তাকে প্রায় ৯ বছর কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে। এমনকি ফাঁসির আসামিদের সেলে রেখে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তবু তাকে তার এলাকার মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশ মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১টি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অবহেলিত সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে একটি আদর্শিক মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি আবারও এলাকাবাসীর সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম। তিনি সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে আলেম-ওলামাদের ময়দান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচিত হলে এই জনপদ শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের মডেলে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক। এছাড়াও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসহাক ও কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক মো. নুরুল আমিন বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আ ন ম নোমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ নোমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান।

অন্যান্যের মধ্যে পলিটিক্যাল সেক্রেটারি মাওলানা আবুল ফয়েজ, শ্রমিক নেতা মাওলানা নুর হোসাইন, শ্রমিক নেতা মো. মহসিন, সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী, সাতকানিয়া জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন ও সাবেক আমির ডা. নুরুল হক বক্তব্য রাখেন। লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস, লোহাগাড়া পূজা পরিষদের উপদেষ্টা মাস্টার প্রদীপ কুমার দাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি পলাশ দাশ, লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আফসার, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য এম ওয়াজাদেদ আলী, সাতকানিয়া জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার আব্দুস সোবহান ও সেক্রেটারি তারেক হোসাইন আলোচনায় অংশ নেন।

এছাড়া সাতকানিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দিন আজাদ, নায়েবে আমির শাহ আলম, সেক্রেটারি মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম, মাদার্শা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা নুরুল আলম, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা এমডি জুনায়েদ এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি আসিফ উল্লাহ আরমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, সাতকানিয়ার পাশাপাশি লোহাগাড়াতেও মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।