সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে: প্রধান উপদেষ্টা

৪৩ হাজার কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, থাকছে ২৫ হাজার বডি-ক্যাম
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১০:৫৮ অপরাহ্ন


আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে এবং আর কখনোই অপশাসন ফিরে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি; এবারের নির্বাচন ও গণভোট দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে এক ‘গেট টুগেদার’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য তুলে ধরেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব জানান, অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা তাদের উদ্দেশে বলেন, অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না; ছিল এক ধরনের ভুয়া নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। দেশ এখন নির্বাচনের চূড়ান্ত লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা থাকলেও এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে তা আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সুসংহত হয়েছে। এখন থেকে তারা দেশের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আলাদা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এছাড়া ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩’ সেবা এবং প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সে সময় উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসেননি। কিন্তু এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষক আসছেন, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে এসেছে।

নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। এছাড়া গত ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবদের সহযোগিতামূলক ভূমিকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান।

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবেন এবং দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে নির্মিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।