সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

জীবন বাঁচাতেই আমাকে দলের নির্বাহী সদস্য করা হয়েছিল: হুমাম কাদের

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১২:০৯ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, তাকে ‘আয়নাঘর’ থেকে বাঁচিয়ে রাখতেই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। সোমবার বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী মহাসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাবার পরিচয়েই মানুষ তাকে দেখতে আসে উল্লেখ করে হুমাম কাদের বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে ধানের শীষের স্লোগান দিতে পারছি। এতদিন স্লোগান দিলেই আয়নাঘরে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো অথবা কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হতো। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন পালিয়ে দিল্লিতে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের দলের নেতাদের দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার দলের কেউ পালিয়ে যায় না। অসুস্থতার অজুহাতে বেগম খালেদা জিয়া কখনো দেশ ত্যাগ করেননি। দেশের সবচেয়ে বড় জানাজা তারই হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি প্রয়াত নেত্রীর জন্য দোয়া চান। হুমাম বলেন, বাবার কাছ থেকে তিনি রাজনীতি, ধৈর্য আর লড়াই করার শিক্ষা পেয়েছেন। আয়নাঘরে কাটানো সাত মাসের কঠিন সময় তাকে আরও শক্ত করেছে।

রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হুমাম একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পদুয়ায় ভাঙা রাস্তার কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে এক গর্ভবতী মা মারা গেছেন। তাই দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় একটি হাসপাতাল ও সড়ক সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, শুধু হাসপাতাল করলেই হবে না, যাতায়াতের ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে। স্কুল-কলেজ ও রাস্তার কাজ একসঙ্গে করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নির্বাচিত হলে কৃষক ও নারীদের জন্য কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার ঘোষণা দেন হুমাম। তিনি বলেন, কেউ যেন বলতে না পারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে চোর-বাটপার। এছাড়া মাদক ও অবৈধ বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। মাদকমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন ধানের শীষের এই প্রার্থী।

আয়নাঘরে থাকার দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আটকের তিন দিনের মাথায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তাকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করেন। মূলত তার জীবন বাঁচানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাদের কারণে এবং জনগণের দোয়ায় তিনি আজ বেঁচে আছেন। তার স্বপ্ন ছিল বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে সংসদে বসার, কিন্তু বেগম জিয়ার মৃত্যুতে তা আর সম্ভব হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাদের শহীদ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে স্লোগান দেন এবং তাকে এই যুগের নতুন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী হিসেবে অভিহিত করেন। সমাবেশে বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং হুমাম কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক যোগ দিলে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।