
নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে চট্টগ্রামের পটিয়ায় টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. ফরিদুল আলম। তার অভিযোগ, ভোটের আগমুহূর্তে সরকারি এই সুবিধা বিতরণ করে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সোমবার রাতে পটিয়ায় দলের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দিন। এ সময় তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে সোমবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এ ধরনের কার্ড বিতরণ করা হবে? শুধু হাবিলাসদ্বীপ নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একইভাবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। একটি সরকারি দপ্তর থেকে কীভাবে এমন সময়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারাই এখন এই কার্ডগুলো বিতরণ করে নিজেদের পক্ষে ভোট চাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমি একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব পালন করা আমার কাজ নয়। প্রশাসনের দায়িত্ব নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। এ ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি জসিম উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের আমির মাস্টার সেলিম উদ্দিন, কালারপোল থানা জামায়াতের আমির মাস্টার নাছির উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফারহানুর রহমান জানান, টিসিবি কার্ড বিতরণের কাজটি ইউনিয়ন পরিষদের রুটিন ওয়ার্ক। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কার্ড বিতরণ করা যাবে না—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি।
ইউএনও আরও ব্যাখ্যা করেন, গত ২৫ জানুয়ারি টিসিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পটিয়াসহ জেলার ১০টি উপজেলার জন্য নতুন কার্ড ইস্যু করে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়। সরকারিভাবে কোনো বাধা থাকলে আঞ্চলিক কার্যালয় কার্ডগুলো পাঠাত না।
তবে কার্ড বিতরণের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন ইউএনও। তিনি বলেন, কার্ড দেওয়ার সময় কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ভোট প্রার্থনা করে, তবে তা অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।