
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের এই ভিড় তীব্র আকার ধারণ করে। এই সুযোগে বাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার রাত ১১টার পর শাহ আমানত সেতুর বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রাম অভিমুখী শত শত যাত্রী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা খুবই কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছেন না অনেকে। এর মধ্যেই কাউন্টারগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হতে দেখা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নির্বাচনের ছুটিতে মানুষ বাড়ি ফিরবে জেনেই বাস মালিকরা সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। পরিস্থিতি এমন যে, ঈদের সময়ের চেয়েও বেশি ভিড় ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
লোহাগাড়া অভিমুখী সাংবাদিক রায়হান সিকদার বলেন, “নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড নিতে শহরে এসেছিলাম। এখন ফেরার পথে ১৪০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে। কোনো কোনো গাড়িতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ইচ্ছামতো ভাড়া নেওয়া হলেও দেখার কেউ নেই।”
সাতকানিয়াগামী যাত্রী ও ‘ওয়ারিয়র্স অফ জুলাই’-এর সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম বলেন, “ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। হানিফ পরিবহনে ৪০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে। ঈদের সময়ও এত ভিড় দেখিনি। যাত্রী আছে কিন্তু বাস নেই, এই সুযোগে বাসওয়ালারা যাত্রীদের পকেট কাটছে।”
উল্লেখ্য, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন উপলক্ষে বুধ ও বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এরপর শুক্র ও শনি (১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছেন। ফলে শেষ কর্মদিবসে অফিস শেষে নাড়ির টানে ও ভোট দেওয়ার তাগিদে গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন হাজারো মানুষ।