সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

গোপন ভোট এখন ‘ওপেন সিক্রেট’, ফেসবুকে ভাসছে সিল মারা ব্যালট

আবছার রাফি | প্রকাশিতঃ ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১:৪১ অপরাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গোপন কক্ষে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করছেন ভোটাররা। শুধু তাই নয়, পছন্দের প্রতীকে সিল মারার পর সেই ব্যালট পেপারের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে দেদারসে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ফেসবুকে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও মোমবাতি প্রতীকে দেওয়া ভোটের ছবিই ফেসবুকে বেশি ভাসছে। গোপন ভোট এভাবে ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নগরীর একাধিক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ এবং গোপন কক্ষে ছবি তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু ভিড়ের সুযোগে অনেক ভোটার লুকিয়ে মোবাইল নিয়ে বুথে ঢুকে পড়ছেন। ভেতরে গোপনে ছবি তুললেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

একুশে পত্রিকার হাতে আসা তথ্য ও ছবি যাচাই করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এম. মনসুর আলম চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বিএনপি প্রার্থীর ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারা একটি ব্যালটের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ সকাল বাংলাদেশ।’

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের শওকতুল ইসলাম নামের এক ভোটার সরাসরি গোপন কক্ষে সিল মারার পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছেন। নিজেকে বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করা এই যুবকের ভিডিওতে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার পাশাপাশি গণভোটে ‘না’ বাক্সে সিল দিতে দেখা যায়। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষা। Ctg-5 Mir Helal Bhai।’

এছাড়া চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের মিজানুর রহমান নামের এক ভোটার মোমবাতি প্রতীকে সিল মারা ব্যালটের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ মোমবাতি প্রতীকে আস্থা রাখুন… সত্যের পক্ষে সমর্থন।’ একইভাবে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের মো. শিহাব উদ্দিন নামের এক ভোটার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল মারা ব্যালটের ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা ও আরপিও অনুযায়ী, গোপন কক্ষ বা সিক্রেট বুথের ভেতর ছবি তোলা বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভোটের গোপনীয়তা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব পোস্ট তাদের নজরে এসেছে। যারা আইন ভেঙে ব্যালটের ছবি প্রকাশ করেছেন, প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে প্রশাসনের চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ভোটাররা।