সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সোনাইমুড়ীতে বোরখা পরা নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, পরিচয় শনাক্তে শিথিলতা

হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লার নানা অভিযোগ, কেন্দ্রে নেই অন্য ৫ প্রার্থীর এজেন্ট
সাজ্জাদুল ইসলাম | প্রকাশিতঃ ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩:৪০ অপরাহ্ন


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আসনটির সোনাইমুড়ী অংশে ৬৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ৫১১ জন।

সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে রিকশায় চড়ে দলে দলে নারী ভোটারদের আসতে দেখা গেছে। পুরুষ ভোটারদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অধিকাংশ নারী ভোটার বোরখা ও নেকাব পরে ভোট দিতে আসেন। পতিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, নারীরা সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিচ্ছেন। তবে কেন্দ্রের ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী এজেন্টরা নিজেদের প্রার্থীর নাম বলতে পারেননি। এছাড়া প্রার্থীদের এজেন্ট কিংবা দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার—কেউই নেকাব পরিহিত ভোটারদের পরিচয় ঠিকমতো যাচাই করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রামপুর, জয়াগ ও পিতাম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের উপস্থিতি কমতে থাকে এবং পুরুষ ভোটারদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে দুপুর ২টার পর কেন্দ্রের সামগ্রিক উপস্থিতি আবার কমে আসে। ভোট দেওয়া শেষে এক সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী জানান, দীর্ঘ ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটালেও গত ১৭ বছর তিনি ভোট দিতে পারেননি। এবার ভোট দিতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত।

এদিকে সকাল থেকে কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হয়নি। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র থেকে তার পক্ষের ভোটারদের ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে তার এজেন্টরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ইতিপূর্বে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া কোনো অভিযোগই আমলে নেওয়া হয়নি বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জয়াগ ইউনিয়নের উলুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ওই ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুফতি হোসাইন আহম্মেদ। তিনি বলেন, অন্যান্য দলের এজেন্টদের পরিচয়পত্রে বুথ নম্বর দেওয়া হয়নি এবং তারা ইচ্ছামতো কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উলুপাড়া কেন্দ্রের ধানের শীষ প্রতীকের দায়িত্বশীল আব্দুল গনী পাটোয়ারী মামুন। তিনি জানান, এই কেন্দ্রটি জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহর গ্রামের বাড়ি হওয়ায় তারা কেন্দ্রটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে অযৌক্তিক অভিযোগ তুলছে। প্রশাসন কেন্দ্রটিকে ‘অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখা প্রতীকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেলেও ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. নুরুল আমিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত মো. মশিউর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত মো. মমিনুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল মনোনীত রেহানা বেগম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ ইফতেখার উদ্দিনের এজেন্টদের অধিকাংশ কেন্দ্রেই পাওয়া যায়নি।