সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির ভূমিধস বিজয়, বিরোধী দলে জামায়াত

দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর জয়জয়কার
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭:০৭ পূর্বাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফলাফল করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হয়েছে।

কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ঘোষিত সর্বশেষ বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। ঘোষিত ২৯৬টি আসনের ফলাফলে বিএনপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন (এর মধ্যে এনসিপি ৬টি)। স্বতন্ত্রসহ অন্যান্যরা ১২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া মামলার কারণে শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-৪ ও ৬ আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭—উভয় আসনেই বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া-৬ আসনে তিনি বিপুল ভোটে জয় পেলেও ঢাকা-১৭ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সামান্য ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে জয়লাভ করেছেন।

রাজধানী ঢাকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা-৮ আসনে রাতভর নাটকীয়তা ও উত্তেজনার পর বিএনপির মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৪ হাজার ৯৮০ ভোট বেশি পেয়েছেন। ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির আমিনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন। ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক।

সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে জামায়াতের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করেছেন। নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনে আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনে ওবায়দু্ল্লাহ সালাফী এবং নীলফামারী-৪ আসনে আব্দুল মুনতাকিম বিজয়ী হয়েছেন। রংপুরে এনসিপির আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন। বগুড়ার প্রায় সবকটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিলেটে বিএনপির প্রার্থীরা আধিপত্য বিস্তার করেছেন, যেখানে সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রামে বিএনপির নুরুল আমিন (মিরসরাই), মোস্তফা কামাল পাশা (সন্দ্বীপ) এবং জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) ও জহিরুল ইসলাম (বাঁশখালী) জয়ী হয়েছেন। কক্সবাজার-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ।

নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণভোটে ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল ৬১ শতাংশ।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কোনো সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ঈদ উৎসবের মতো আনন্দের ছিল। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। প্রথমবারের মতো এবার ১০ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি নতুন মাইলফলক।