সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

‘জনআকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি দেব’: বিশাল জয়ের পর আবেগঘন সালাহউদ্দিন

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭:৪৩ পূর্বাহ্ন


কক্সবাজারের রাজনীতিতে চকরিয়া-পেকুয়া আসনটি বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াইয়ের জন্য পরিচিত। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের পুরোনো দুর্গে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের। প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, দীর্ঘ বিরতির পরও এই জনপদে তাঁর জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদের পর এবার চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন।

বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৯৪ হাজার ৪৪৭, যা এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চকরিয়া ও পেকুয়া—উভয় উপজেলাতেই একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। চকরিয়া উপজেলার ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭১১ ভোট, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আল ফারুখ পেয়েছেন ৯৬ হাজার ১৭১ ভোট। অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার ৪৭টি কেন্দ্রে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৪৭ ভোট এবং আবদুল্লাহ আল ফারুখ পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৪০ ভোট। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী হাতপাখা প্রতীকে দুই উপজেলা মিলিয়ে সামান্য কিছু ভোট পেয়েছেন, যা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই এই ভূমিধস বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে পেকুয়া উপজেলা গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং চকরিয়ার অবকাঠামগত উন্নয়নে অতীতের অবদানের প্রতিদান দিয়েছেন ভোটাররা। মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৮ জন ভোটারের এই আসনে নারী ও পুরুষ ভোটারদের সমান্তরাল উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশও এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। বৃহস্পতিবার রাত এগারোটায় পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম এবং রাত সাড়ে বারোটায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই পেকুয়া উপজেলা সদরের বাসভবনে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আমি বড়ই সৌভাগ্যবান, এই অঞ্চলের মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আমিও তাদের ভালোবাসি। এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি আমার যে প্রতিশ্রুতি, তার চেয়ে বেশি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করব। তাঁর এই বক্তব্যে সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি আগামীর উন্নয়নের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।