সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭:৩৯ পূর্বাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি; তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন দলটির সিদ্ধান্তের ওপরই ঝুলে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ক্ষমতার এই পালাবদলের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে—মাঠপর্যায়ের বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ভবিষ্যৎ এবং দলটির রাজনীতিতে ফেরার বিষয়টি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটের ডাক দিলেও মাঠপর্যায়ে তাদের কর্মী-সমর্থকরা ‘কৌশলগতভাবে’ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা একটি বড় দলের ভোটব্যাংক অন্য শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না তারা। তবে দলটির পুনর্গঠন বা রাজনীতিতে ফেরা এখন অনেকাংশেই নির্ভর করছে বিএনপি ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশলের ওপর।

শনিবার নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়, দেশে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থক আছে, তাদের নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এর সমাধান হবে।’’

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘‘জনগণ চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন।’’ তার এই বক্তব্য এবং নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতি এমন নমনীয় ভাষা ক্ষমতাসীন হওয়ার পথে থাকা দলের ভিন্ন কোনো অবস্থানের ইঙ্গিত হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে তার কোনো আপত্তি নেই। জয় বলেন, ‘‘আমি সবসময়ই উন্মুক্ত। আমি এমন একজন মানুষ, যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করে—তা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক।’’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে এবং সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কার্যত ছত্রভঙ্গ। এমন পরিস্থিতিতে দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা বা না করার চাবিকাঠি এখন বিএনপির হাতে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সামনে এখন দুটি পথ খোলা। তারা চাইলে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে একক আধিপত্য বজায় রাখতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। অথবা, তারা একটি ‘নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির’ পথ বেছে নিতে পারে, যেখানে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে নির্বাচনে জামায়াতের দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উত্থান এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব কমাতে বিএনপি ভবিষ্যতের স্বার্থেই আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতির মাঠ কিছুটা উন্মুক্ত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।