সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ভোটের অনুপাত নাকি আসন? উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বিতর্ক

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩:২৭ অপরাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি; তবে জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি জোট ৫১ দশমিক ১ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামী জোট ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেলেও, উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন ভোটের অনুপাতে হবে নাকি সংসদের আসনের অনুপাতে—তা নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯০ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিএনপি এককভাবে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে ২২৭ আসনে লড়ে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। জামায়াত জোটের শরিক এনসিপি ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ২ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তবে বিগত তিন সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১ শতাংশের কম (দশমিক ৮৯ শতাংশ) ভোট পাওয়ায় তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। গত ১৩ নভেম্বর জারি করা আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। এই হিসাবে বিএনপি উচ্চকক্ষে ৫৬টি এবং জামায়াত ৩৬টি আসন পাওয়ার কথা। এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আনুপাতিক হারে আসন পাবে।

তবে বিএনপি চাইছে ভোটের অনুপাতের পরিবর্তে জাতীয় সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত শনিবারও তাদের এই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির প্রস্তাবনা কার্যকর হলে সংসদের প্রতি তিনটি আসনের বিপরীতে উচ্চকক্ষে একটি আসন বণ্টন হবে। এতে ইসলামী আন্দোলন বা এনসিপির মতো দলগুলো উচ্চকক্ষে কোনো প্রতিনিধিত্ব পাবে না।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘এই প্রশ্নই তো আসে না। জুলাই সনদে নানা বিষয়ে নানা দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকার কারণেই তো গণভোট হয়েছে। গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষ রায় দিয়ে সেই নোট অব ডিসেন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’’

সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ৩৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের যে ফলাফল হয়েছে, তাতে জুলাই সনদ মেনে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করলেও বিএনপি সংবিধান সংশোধনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।’’

জুলাই সনদের ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৩০টিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছিল। বাকি ১৮টির মধ্যে ৮টি প্রস্তাব গণভোটে বাধ্যতামূলক হিসেবে পাস হয়েছে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং কমিটির মাধ্যমে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার গঠনের পর বিএনপি তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ কার্যকর করে, নাকি গণভোটের রায় মেনে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করে।