
বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ গ্রহণ না করায় নাটকীয় মোড় নিয়েছে নতুন সংসদের যাত্রা; এর প্রতিবাদে সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। মঙ্গলবার সকালে বিএনপি কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জামায়াত জোটের নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেছেন এবং শপথ গ্রহণ নিয়ে তাদের সংশয়ের কথা জানিয়েছেন।
দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথ গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে জোটভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক আলোচনায় তারা শপথ না নেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন।
হামিদুর রহমান আযাদ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘‘আগে থেকেই শিডিউল দেওয়া হয়েছে একই সঙ্গে দুটি শপথ পড়ানো হবে। এখন যদি বিএনপি সংস্কারের জন্য শপথ না নেয়, তাহলে আমরা সংসদে গিয়ে কী করব? ওই সংসদে গিয়ে আসলে কী হবে?’’
এর আগে সোমবার নির্বাচন কমিশনের পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সেই অনুযায়ী সকাল পৌনে ১১টায় বিএনপির নতুন এমপিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামী এবং এরপর এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির অবস্থানের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যদি সংস্কার প্রক্রিয়ায় অঙ্গীকারবদ্ধ না হয়, তবে বিরোধী দল হিসেবে তাদের ভূমিকা পালন এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে জোটের বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।