সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

তামাক ছেড়ে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চকরিয়ার কৃষকরা, রমজানেই বাজারে

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ন


আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের তৃষ্ণা মেটাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর বালুচরে উৎপাদিত রসালো তরমুজ বাজারে আসছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তামাক চাষের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো মাতামুহুরীর বুকে জেগে ওঠা চরে ‘এশিয়াপ্লাস’ জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

আর মাত্র দুই দিন পর শুরু হতে যাওয়া রমজানকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে এই তরমুজ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষিরা। চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের কামালউদ্দিন মাস্টারঘাটা এলাকায় মাতামুহুরী নদীর চরে এই তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় যেখানে তামাকের আধিপত্য ছিল, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজ তরমুজ।

স্থানীয় কৃষক নুরুল কবির জানান, মেসার্স শহীদ এগ্রোফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় তিনি তামাক চাষ বাদ দিয়ে ৬ কানি জমিতে নভেম্বর মাসের শুরুতে তরমুজ চাষ শুরু করেন। জমি লিজ, সেচ ও শ্রমিক মজুরিসহ তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পরিচর্যার ফলে মাত্র ৬৫ দিনের মাথায় ফলন আসতে শুরু করেছে।

তিনি আশা করছেন, রমজানে এই তরমুজ বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে।

তরমুজ বীজ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শহীদ এগ্রোফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মাতামুহুরীর তীরের উর্বর মাটি তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সরকারি বীজ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অনুমোদনপ্রাপ্ত তাদের আমদানিকৃত হাইব্রিড ‘থাই সুপার’ ও ‘এশিয়াপ্লাস’ জাতের তরমুজ চাষে সারাদেশে বেশ সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে ভোলা ও নোয়াখালীর চরাঞ্চলে এবং লামার ইয়াংছা ও কুতুপালং পাহাড়ি এলাকায় এই জাতের তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। চকরিয়াতেও পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষাবাদ সফল হয়েছে।

মো. শহিদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পর স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় কৃষকদের তামাকের পরিবর্তে অধিক লাভজনক ফসল তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সাড়ে সাত হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে।

তামাকের বদলে তরমুজ চাষের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।