
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বিশৃঙ্খলভাবে বাজার বসানো হয়েছে। দিনের পর দিন এই দখলদারিত্বের কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের একপ্রকার নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যেখানে-সেখানে দোকানপাট বসানোর ফলে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে এবং চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজারের মূল সড়ক ও আশপাশের ফুটপাত দখল করে রেখেছেন ভাসমান বিক্রেতারা। ফুটপাত ছাপিয়ে মূল সড়কের অর্ধেকটাই এখন দোকানের দখলে।
এর ফলে রিকশা, অটোরিকশা এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের মতো জরুরি পরিস্থিতিও স্থবির হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং অফিসগামীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দিদারুল আলম বলেন, আগে এখানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা যেত। কিন্তু এখন বাজারটি এত বিশৃঙ্খল যে, ১০ মিনিটের পথ পার হতে আধা ঘণ্টা সময় লাগছে। এছাড়া ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে রাস্তায় হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে।
আরেকজন পথচারী জানান, বাজারের কোনো নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে নারীদের ইভটিজিংয়ের ঘটনাও বাড়ছে। যত্রতত্র বাজার বসা নিয়ে প্রশাসন মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান চালালেও পরদিন বিক্রেতারা আবারও আগের জায়গায় ফিরে আসেন। তাই প্রশাসনের উচিত এর একটি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই বাজারটি এভাবে মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট শেড থাকা সত্ত্বেও অনেক বিক্রেতা বেশি বিক্রির আশায় রাস্তার ওপর দোকান নিয়ে বসছেন। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে বাজারে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আকতারকে অবগত করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান ও কঠোর তদারকির মাধ্যমেই এই বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব।