
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে যোগ দিয়েছেন বিসিএস উত্তীর্ণ ৯ জন চিকিৎসক।
জানা গেছে, সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক-স্বল্পতার কারণে সরকারি চিকিৎসাসেবার কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। তারপরও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মরত চিকিৎসকরা সমন্বিতভাবে গ্রামীণ জনপদের বিপন্ন মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে আসছিলেন। এরই মধ্যে নতুন করে ৯ জন চিকিৎসক হাসপাতালে যোগদান করায় রোগীরা এখন থেকে আরও উন্নত ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ৪৮তম বিসিএস থেকে সাতজন, ২৭তম বিসিএস থেকে একজন এবং একজন মেডিসিন কনসালটেন্টসহ মোট নয়জন নতুন চিকিৎসক বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নবাগত ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এতদিন চিকিৎসক-সংকটের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে জরুরি সেবা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং নিয়মিত চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রচণ্ড চাপ ছিল। নতুন চিকিৎসক যোগদানের ফলে চিকিৎসাসেবার এই দৃশ্যপট বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, নবীন ও প্রবীণ চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আমরা সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি। একই সঙ্গে নবাগত চিকিৎসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
পেকুয়া উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক দিদারুল করিম বলেন, চিকিৎসক-সংকট দূর হওয়ার মধ্য দিয়ে এখন থেকে পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে রোগীরাও সহজে প্রয়োজনীয় সরকারি চিকিৎসাসুবিধা পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।