
চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ফয়সাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক যৌন হয়রানি, বডি শেমিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক নারী কর্মী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার না পেয়ে উল্টো হুমকি-ধামকির মুখে তিনি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে (ডিআইএফই) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে ওই নারী কর্মী জানান, তিনি ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর থেকে হাসপাতালটির ইকো বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মহাব্যবস্থাপক মো. ফয়সাল উদ্দিন বিভিন্ন সময় কাজের বাইরে তার বাসস্থান, ব্যক্তিগত জীবন ও বেতন নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। অফিস শেষে দেরি হলে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে ওই নারীকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিতেন, যা তার কাছে অস্বস্তিকর ছিল।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইভিনিং শিফটে দায়িত্ব পালনকালে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলের কক্ষে প্রবেশ করে ওই নারীর শারীরিক গঠন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও বডি শেমিং করতেন মো. ফয়সাল উদ্দিন। বাধ্য হয়ে ওই নারী নিজের ডিউটি শিফট পরিবর্তন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার হাসি ও সাজসজ্জা নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও সন্তোষজনক প্রতিকার পাননি তিনি। উল্টো গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ম্যাক্স হাসপাতালে ডেকে কয়েকজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং অন্যত্র চাকরি খুঁজতে বলা হয়। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও চাকরি হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক মো. ফয়সাল উদ্দিন জানান, এটি পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অভিযোগ। একটি মহল তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখতে এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য করতেই এসব করছে, যার কোনো প্রমাণ অভিযোগকারীর কাছে নেই।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মাহবুব হাসান জানান, নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানির বিষয়ে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার লেবার ইন্সপেক্টর গোবিন্দ মজুমদারকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সমন্বয়কারী ফজলুল কাবির মিন্টু জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে এর আগেও নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।