সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘খোলা যুদ্ধ’ ঘোষণা, ১৩৩ সেনা নিহত

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১২:০৫ অপরাহ্ন


পাকিস্তান সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেনা হত্যা ও অপহরণের কড়া জবাব দিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ বা একটি প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু করেছে পাকিস্তান। এই সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদের ডিপো ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এখন থেকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে তাদের একটি ‘খোলা যুদ্ধ’ বা প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা সবসময় শান্তি চেয়েছেন, তবে এখন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসন দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।

শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানিয়েছেন, রাত তিনটা পঁয়তাল্লিশ মিনিট থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও এক্সে নিশ্চিত করেছেন যে, কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারে তালেবানের প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মোশাররফ জাইদির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর এই হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক সেনা সদস্য। পাশাপাশি কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের সাতাশটি সেনাচৌকি পুরোপুরি ধ্বংস এবং নয়টি চৌকি দখল করে নেওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, কাবুলে এবং অন্যান্য স্থানে হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এর আগে জানিয়েছিলেন, ডুরান্ড লাইন বরাবর আফগানিস্তানও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় পরিসরে আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছে।

এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক মহল থেকে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিকের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংযত হওয়ার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সমস্যা সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, আফগানরা যেকোনো পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে। বিশ্লেষক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড এবং সামি ওমারি মত প্রকাশ করেছেন যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এবং বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পর এই সংঘাত মোটেও অবাক করার মতো নয়।