সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যা: আদালতে বাবু শেখের স্বীকারোক্তি, পরিবারের পাশে মীর হেলাল

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৪ মার্চ ২০২৬ | ৯:৩২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার পর গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি বাবু শেখ। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিনের আদালতে তিনি এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামি বাবু শেখ নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। যেহেতু তিনি এই ঘটনার একমাত্র আসামি, তাই এখন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকার্য শুরু হবে।

এদিকে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহত শিশুর বাবা-মাকে সান্ত্বনা জানাতে তাঁদের বাড়িতে যান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। এ সময় মীর হেলাল বলেন, এই মর্মান্তিক ও পৈশাচিক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যথিত এবং তিনি পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে পাঠিয়েছেন। নিহত শিশুর পরিবারের আর্থিক সংগতি বা অসংগতির দিকে না তাকিয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাশের পাহাড়ে নিয়ে যান প্রতিবেশী বাবু শেখ (৫০)। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার দেয়। এতে ব্যর্থ হয়ে বাবু শেখ ছুরি দিয়ে শিশুটির গলা কেটে মৃত ভেবে খাদে ফেলে চলে যান। পরে শিশুটি গলাকাটা অবস্থায় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে থাকা চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কে উঠে এলে সংস্কারকাজে থাকা শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার রাতে তার গলায় অস্ত্রোপচার করা হলেও সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

এ ঘটনায় রোববার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যা শিশুটির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ঘটনার পর পুলিশ চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সড়ক ও ইকোপার্ক এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে মঙ্গলবার সকালে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা স্বীকারের পর বাবু শেখকে নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটির পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার জানান, বাবু শেখ ও নিহত শিশুর পরিবার প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। পূর্বশত্রুতার কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বাবু শেখ এই হত্যার পরিকল্পনা করেন।