সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

একুশে পত্রিকার ‘ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ৪ সাংবাদিক

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৬ মার্চ ২০২৬ | ১২:২৫ পূর্বাহ্ন


সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং সমাজের অসংগতি দূর করে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। আর এই ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম’ বা প্রভাব সৃষ্টিকারী সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন একুশে পত্রিকার নির্ভীক সংবাদকর্মীরা।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ‘ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট’ মূল্যায়নে মাঠ পর্যায়ে বাস্তব পরিবর্তন, প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ মাসের ‘সেরা ইমপ্যাক্ট জার্নালিস্ট’ নির্বাচিত হয়েছেন চকরিয়া প্রতিনিধি এম. জিয়াবুল হক।

পাশাপাশি, অসীম সাহসিকতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ফেব্রুয়ারি মাসে অংশ নেওয়া অপর তিন সাংবাদিককে ‘স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি মোড় সংলগ্ন কিচেন রেস্টুরেন্টে একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ দোয়া, ইফতার মাহফিল ও ‘ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট’ প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনেই একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপু ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

কেন ‘ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন এম. জিয়াবুল হক?

ফেব্রুয়ারি মাসে এম. জিয়াবুল হকের দুটি প্রতিবেদন প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি উপকার বয়ে এনেছে।

প্রথমত, চকরিয়ার বদরখালীতে সরকারি টোল পয়েন্ট দখল করে অবৈধ ডকইয়ার্ড নির্মাণের বিরুদ্ধে তার বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি রক্ষা পেয়েছে, তেমনি সাধারণ জনগণ একটি অসাধু চক্রের চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

দ্বিতীয়ত, পবিত্র রমজান মাসে অসাধু ব্যবসায়ীদের লেবু-শসার দাম দ্বিগুণ করার বিরুদ্ধে তার প্রতিবেদনের পরপরই ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামে এবং জরিমানাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। জনস্বার্থে সরাসরি ‘বাস্তব পরিবর্তন’ ও অর্থনৈতিক সাশ্রয় নিশ্চিত করায় তিনি এ মাসের সেরা ইমপ্যাক্ট জার্নালিস্ট।

স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা:

জিন্নাত আয়ুব (আনোয়ারা-কর্ণফুলী প্রতিনিধি): আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের সময় ভুয়া রোগী সাজানো এবং সাধারণ রোগীদের চরম দুর্ভোগের চিত্র সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন জিন্নাত আয়ুব। সত্য প্রকাশের জেরে সাবেক ছাত্রদল নেতার কাছ থেকে হুমকি পেলেও তিনি পিছু হটেননি। তার এই সাংবাদিকতার প্রভাবেই সংসদ সদস্য বাধ্য হয়েছেন গণমাধ্যমের কাছে এসে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে। প্রভাবশালীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার এই অদম্য সাহসের জন্য তিনি বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।

আমির হামজা (রাউজান প্রতিনিধি): শিশু মিশবাহর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাউজানের আশ্রয়ণ প্রকল্পের সেই মরণফাঁদ (পরিত্যক্ত নলকূপের গর্ত) নিয়ে আমির হামজার হৃদয়স্পর্শী ও জোরালো প্রতিবেদনের পরদিনই প্রশাসন তা ভরাট করে দেয়। তার এই খবরের কারণে ওই এলাকার শিশু ও বৃদ্ধের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এটি জনসম্পৃক্ততা ও সমস্যা সমাধানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন (বাঁশখালী প্রতিনিধি): বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, কোন্দল ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি তার কলমে উঠে আসে। সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং প্রচারণায় কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে এই প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে। একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় তার এই প্রতিবেদনটি বিশেষ ইমপ্যাক্ট তৈরি করেছে।

একুশে পত্রিকা মনে করে, এই সাংবাদিকদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন সমাজের একেকটি অসংগতি দূর করার হাতিয়ার। আমরা আমাদের এই নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মীদের জন্য গর্বিত। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে, যা একটি সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে পথ দেখাবে।

সম্পাদকের নোট: রিপোর্টগুলোতে স্পষ্টতই সাংবাদিকদের দারুণ মুন্সিয়ানা এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তব প্রভাব ফুটে উঠেছে। জিয়াবুলের কাজের ভলিউম এবং সরাসরি প্রশাসনিক অ্যাকশন তাকে প্রথম স্থানে রেখেছে, তবে জিন্নাত আয়ুবের সাহসিকতাও আলাদাভাবে উল্লেখ করার মতো।