সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাউজানে সড়কে কাদামাটির মরণফাঁদ, বৃষ্টিতেই দুর্ঘটনার শঙ্কা

আমির হামজা | প্রকাশিতঃ ৭ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫১ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের রাউজানে গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে কাদামাটি জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। সড়কগুলোতে চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চালক ও যাত্রীরা।

গত কয়েক দিন আগে এক-দুই মিনিটের বৃষ্টিপাতে সড়কগুলো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। গাড়িচালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচল এবং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে না আসায় সড়কে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের ওপর পড়ে থাকা এসব কাদামাটি অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়কের ওপর কাদামাটির আস্তরণ জমে রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, রাউজান-নোয়াপাড়া সড়ক ও আদুদিয়া সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয়রা জানান, শুকনো সময়ে এসব সড়কে ধুলো উড়লেও সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চালক, যাত্রী ও সচেতন মহলের মতে, সড়কের ওপর কাদা জমে থাকলে যানবাহনের চাকা ও পিচঢালা অংশের মধ্যে ঘর্ষণ কমে যায়। ফলে ব্রেক করলে গাড়ি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বাঁক ও ঢালু স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘদিন কাদা পড়ে থাকলে পিচের স্তর নরম হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সড়কের স্থায়িত্ব কমে যায় এবং এতে সংস্কার ব্যয় বাড়ে।

মোটরসাইকেল চালক ও গণমাধ্যমকর্মী আনিসুর রহমান বলেন, শুকনো অবস্থায় সড়কে গাড়ি চালালে ভাইব্রেশন হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাদামাটির কারণে ব্রেক চাপলে গাড়ি পিছলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমন অবস্থায় গাড়ি চালানো অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান।

অটোরিকশাচালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, গাড়ি কাদায় বেশি পিছলে যায়। যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে।

স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি, পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার সময় সড়কে পড়ে যাচ্ছে। অনেক ট্রাক অতিরিক্ত বোঝাই ও ঢাকনাবিহীনভাবে চলাচল করায় সড়কে কাদার স্তর তৈরি হচ্ছে।

রাউজান পৌর এলাকার সচেতন নাগরিক মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহন বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত তদারকি না থাকায় সড়ক নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাতের আঁধারে ট্রাকে করে মাটি সরবরাহের বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর পরামর্শ দেন। পরে ইউএনওকে অবহিত করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মোহাম্মদ আলী সুমন প্রশ্ন তুলে বলেন, রাতে থানা ও হাইওয়ে পুলিশের টহল থাকার পরও কীভাবে অবৈধভাবে কৃষিজমি ও পাহাড় কেটে ট্রাকে করে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে? বাস্তবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব কাজ করা হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এসব সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। পাশাপাশি অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহন রোধে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও ভূমিকা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।

এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংচিং মারমা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। সড়কে মাটি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাটি কাটা রোধে ইতিমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। রাতের আঁধারে ট্রাকে করে মাটি পরিবহন বন্ধে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে কোথাও মাটি জমে থাকলে তা অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি জানা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, অতিরিক্ত বোঝাই বা ঢাকনাবিহীন ট্রাক চলাচল করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।