
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে নেই কোনো নারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করে অধিকার আদায়ের আজকের দিনেও নারীদের কল্যাণে কাজ করা এই কার্যালয়টি চলছে সম্পূর্ণ পুরুষ জনবল দিয়ে। ফলে সেবা নিতে আসা নারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যা বা অভিযোগ জানাতে চরম অস্বস্তি বোধ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফটিকছড়ি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে মো. ছফি উল্লাহ ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন মো. নিজাম উদ্দীন ভূঁইয়া। কার্যালয়ের আরও তিনটি পদ দীর্ঘদিন ধরেই খালি পড়ে আছে। নারীদের সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করা সরকারি এই কার্যালয়ে কোনো নারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী না থাকায় সেবাগ্রহীতারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয় নারীরা মনে করেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সুবিধার্থে এই কার্যালয়ে অন্তত একজন নারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী থাকা অত্যন্ত জরুরি। নাজিরহাট পৌরসভার বাসিন্দা ও শিক্ষক শারমিন আকতার জানান, টেকসই উন্নয়নের অন্যতম অপরিহার্য পূর্বশর্ত হচ্ছে নারীর উন্নয়ন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখানে নারী কর্মকর্তা থাকা জরুরি, যাতে নারীরা তাঁদের অব্যক্ত কথা সহজে শেয়ার করতে পারেন এবং সমস্যার সমাধান হয়।
সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা লায়লা বেগম জানান, নারী কর্মকর্তা থাকলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি, হাঁস-মুরগি বা গরু-ছাগল পালন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে নারীরা অকপটে কথা বলতে পারতেন। অন্যদিকে বাগান বাজারের বাসিন্দা লুতফুর নেছা জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, মানসিক কাউন্সেলিং এবং সমাজে পুনর্বাসনের মতো স্পর্শকাতর কাজে একজন নারী কর্মকর্তা অপরিহার্য।
উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করেন, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি, দেনমোহর বা খোরপোষের মতো বিষয়ে নারীরা পুরুষদের চেয়ে নারী কর্মকর্তার কাছেই নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ছফি উল্লাহ জানান, কার্যালয়ে মহিলা কর্মকর্তা বা কর্মচারী না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। তাঁরা পুরুষ হলেও নারীদের উন্নয়নে কাজ করেন এবং সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করেন। তবে সরকার নারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে নারী কর্মকর্তাদের পদায়ন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, বিষয়টি মূলত প্রশাসনিক ও জনবল সংকটের কারণে তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকট যদি নারীদের সেবাপ্রাপ্তি ও গোপনীয়তার বিষয়টিকে ব্যাহত করে, সে ক্ষেত্রে তিনি বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী জানান, তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনতে এবং নারীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে দ্রুত নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়নের চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।