সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

এক্সক্যাভেটর নয়, খুলশীতে শাবল-কোদাল দিয়ে চলছে পাহাড় সাবাড়ের মহোৎসব

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৯ মার্চ ২০২৬ | ৮:৫৩ অপরাহ্ন


প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এক্সক্যাভেটরের বদলে সনাতন পদ্ধতির শাবল ও কোদাল ব্যবহার করে চট্টগ্রামের দক্ষিণ খুলশী এলাকায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট খাড়া একটি পাহাড় সাবাড় করা হচ্ছে। ভিআইপি হাউজিং সোসাইটির পাশে গত দুই মাস ধরে এলাকার চিহ্নিত কয়েকজনের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ শ্রমিকদের দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে এই পাহাড় কাটার কাজ চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভারী যন্ত্রপাতির আওয়াজ এড়াতে ধীরগতিতে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে এবং পাহাড়ের গায়ে শাবল ও কোদালের তরতাজা ক্ষত দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ খুলশীর ভিআইপি হাউজিং সোসাইটি মসজিদ থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরত্বে থাকা খাড়া পাহাড়টির চারপাশে টিন ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। লোকচক্ষুর আড়াল করতে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি টিনের ঘর।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে একটানা কাজ না করে সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। এলাকার চিহ্নিত দুই ব্যক্তি তোতন ও জাহিদুল ইসলাম এই পাহাড় কাটার সঙ্গে যুক্ত। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোতন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করে জানান, পাহাড়টির মূল মালিক ছিলেন মোহাম্মদ মানিক নামের এক ব্যক্তি। মোহাম্মদ মানিকের কাছ থেকে পাহাড়টি কিনে নেন জাহিদুল ইসলাম ও তোতন। এরপর থেকেই তারা পাহাড়টি কেটে সমতল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকার অপর বাসিন্দা সাজু জানান, তোতন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই পাহাড় দখল ও কেটে সমতল করার কর্মযজ্ঞ শুরু হলেও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে তা একপর্যায়ে থেমে যায়। তবে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকে আবার নতুন করে পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে।

সাজু আরও জানান, সিরাজ, মাইদুল ও দিনা নামের তিন অভিজ্ঞ পাহাড় কাটা শ্রমিক শাবল দিয়ে পাহাড়ের ওপর থেকে ছোট ছোট মাটির চাক কাটেন। এরপর তিন-চার দিন পর সেগুলো ছোট ড্রাম ট্রাকে করে পরিষ্কার করে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট রুবাইয়াত তাহরীম সৌরভ জানান, পাহাড় কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে তাদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে পাহাড় কাটার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেলেও হাতেনাতে কোনো শ্রমিককে পাওয়া যায়নি। তবে এই পাহাড় কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে বলে জানান রুবাইয়াত তাহরীম সৌরভ।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তোতন পাহাড় কাটার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই জায়গাটি ২০০৩ সালের দিকে তিনি পাওয়ারমূলে কিনেছিলেন এবং ২০০৬ সালের দিকে কয়েকটি প্লটে ভাগ করে বিক্রি করে দিয়েছেন। তোতন দাবি করেন, যারা কিনে নিয়েছেন, তারা যদি পাহাড় কাটেন, সেখানে তার কিছু করার নেই।