
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা সাবান গলিয়ে রাসায়নিক মিশিয়ে নতুন মোড়কে বাজারজাত করার অভিযোগে একটি গোপন কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের তেওরিখীল এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রায় ১৫০ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ সাবান ধ্বংস করা হয়েছে। একইসঙ্গে কারখানার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেনের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেওরিখীল সংলগ্ন স্থানে মফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এই সাবানের কারখানাটি চালিয়ে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির মেয়াদোত্তীর্ণ কাপড় কাচার প্রায় ১৫০ বস্তা সাবান এবং বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নাম ব্যবহার করা প্রায় দুই বস্তা খালি প্যাকেট জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
লোহাগাড়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শের আলী জানান, অভিযানের সময় কারখানার মূল মালিক মফিজুর রহমানকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে সামসুল ইসলাম নামের এক কর্মচারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। সামসুল ইসলামের বাবার নাম মৃত আব্দুস ছালাম।
আটকের পর সামসুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অকপটে স্বীকার করেন যে, তারা বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা সাবান সংগ্রহ করতেন। এরপর সেগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে নতুন সাবান তৈরি করে তা আবার নতুন প্যাকেটে ভরে বাজারে বিক্রি করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেনের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জব্দ করা সব নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ মালামাল জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় আটক কর্মচারী সামসুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে তাকে এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শের আলী জানিয়েছেন।