সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় সংসদ হবে সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু: প্রধানমন্ত্রী

দল নয় জনগণের স্বার্থই বড়, সংসদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে উদ্ধৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী
| প্রকাশিতঃ ১২ মার্চ ২০২৬ | ১:৫৯ অপরাহ্ন


দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদই হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

এর আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি।

যাঁরা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন।

কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই পবিত্র সংসদকে চরম প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি নিজে দেখে যেতে পারেননি। আজ আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।

ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই সবসময় বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন বলে জানান তারেক রহমান।

তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের এবং সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি।

তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বিভেদ থাকতে পারে না।

প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে উপস্থিত সব সংসদ সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বর্তমান সংসদের এই বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের চরম জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তাঁরা হয় কারাগারে বন্দি আছেন, না হয় আত্মগোপনে পলাতক রয়েছেন বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

এই সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৩ সালের একটি উদাহরণ টেনে আনেন।

তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও সে সময় মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন।

আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটেও আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু করছি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।