সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টেকনাফে হামলার শিকার র‍্যাব

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১২ মার্চ ২০২৬ | ২:১৯ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এতে র‍্যাবের অন্তত ৯ সদস্য আহত হয়েছেন এবং হামলাকারীরা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

বুধবার রাত আটটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আটক হওয়া ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদের ছেলে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।

মো. সাইফুল ইসলাম আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আটক ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসানকে এখনো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি জানিয়ে ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, র‍্যাব লিখিত অভিযোগ দিলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‍্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১-এর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, নাজিরপাড়া এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় একদল ব্যক্তি র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র‍্যাবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।

সোহেল রানা জানান, এই হামলায় অন্তত ৯ সদস্য আহত হয়েছেন এবং আহত র‍্যাব সদস্যদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান নামের একজনকে আটক করা হয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিকেলে নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল।

সেখানে উপস্থিত সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসানকে র‍্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে কিছু লোক র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়, পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার বলেন, আহত অবস্থায় র‍্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার আরও জানান, তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আটক ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসানের বাবা সিদ্দিক আহমেদ দাবি করেন, ইফতার মাহফিল চলাকালে সাদাপোশাকে ১০-১৫ জন র‍্যাব সদস্য হঠাৎ এসে সভাস্থল ঘিরে ফেলেন, এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সিদ্দিক আহমেদ আরও দাবি করেন, তাঁরা কোনো যানবাহনে আগুন দেননি এবং তাঁর ছেলে ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও নেই।