
বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দীন।
তিনি বলেন, নারী অভিবাসীরা দেশে ফিরে অনেক সময় পরিবার ও সমাজ থেকেই নানা বাধার সম্মুখীন হন।
তাঁদের ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে এবং তাঁদের অর্জিত দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন করলে তাঁরা খুব সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে মো. শরীফ উদ্দীন মন্তব্য করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় অংশীজনদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরত আসা প্রায় দেড় হাজার নারীকে তাঁরা কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
শরিফুল হাসান তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে আরও বলেন, কাজটি সবাইকে মিলে একযোগে করতে হবে এবং সবার আগে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক করতে হবে।
বিদেশে গিয়ে কোনো নারী নিপীড়িত হয়ে ফেরত এলে বিমানবন্দরে কার কী ভূমিকা হবে এবং কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে শরিফুল হাসান উল্লেখ করেন।
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মিলে কাজটি করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কেবল দরিদ্র ও নারী বলে তাঁদের প্রতি কোনো ধরনের অবহেলা দেখানো যাবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সুব্রত দাশ বলেন, দালাল কিংবা আত্মীয়ের কথায় প্রলুব্ধ না হয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিয়ম মেনে বিদেশ যেতে হবে।
এ ছাড়া আর্থিক লেনদেনের যথাযথ প্রমাণ রাখার পরামর্শ দিয়ে সুব্রত দাশ বলেন, লেনদেনের প্রমাণ না থাকায় অনেক সময় প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্র্যাকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী ইনামুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার ব্লেইস এন্থনি গোমেজ।
উন্মুক্ত আলোচনায় আরও অংশ নেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মাহেন্দ্র চাকমা, মহিলা টিটিসির অধ্যক্ষ আশরিফা তানজীম এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হাসান মোহাম্মদ সাহারিয়া।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বোয়ালখালীর বিদেশ-ফেরত নারী অভিবাসী শামীম আকতার জানান, বিদেশে প্রতারিত হয়ে ফেরার পর ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের সহায়তায় তিনি কীভাবে আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছেন।
কর্মশালায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি সাবিনা সাইদ, রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর মো. ইমাম উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুর রহিম অংশগ্রহণ করেন।
পাশাপাশি নারী চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ ব্র্যাকের কর্মীরাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।