
বরাবরই ‘ফটিকছড়ি প্রতিদিন’ অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
দুই মাস ২৬ দিন বয়সী এই সংবাদমাধ্যমটি শুধু নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেনি।
তারা প্রথমবারের মতো আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্রদের কথা চিন্তা করে ঈদ উপহার প্রদান করেছে।
উপজেলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গরিব ও অসহায়দের সম্মানে তারা এই বিশেষ উপহারের আয়োজন করে।
আর সেই ঈদ উপহার পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এই মানুষগুলো।
‘ফটিকছড়ি প্রতিদিন’ মূলত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম, যার পোর্টাল ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ রয়েছে।
গত ১৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা মাধ্যমটি ‘সাদাকে সাদা অবিকল রাখা’র অঙ্গীকারে উপজেলার নানা প্রান্তের সংবাদের পাশাপাশি এবার সামাজিক কর্মকাণ্ডও শুরু করেছে।
ঈদে মুখ ফুটে নিজেদের অভাবের কথা বলতে না পারা মানুষগুলোর জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই এই মহতী উদ্যোগ নেয় ‘ফটিকছড়ি প্রতিদিন’।
তাদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হন কয়েকজন সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি।
সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ঈদ উপহার বিতরণ করেন তাঁরা।
এতে ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
অন্যান্যদের মধ্যে সমাজসেবক মোহাম্মদ হোসাইন বাবুও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ধনী-গরিব সবাই মিলে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্যই এসব পরিবারের মাঝে সেমাই, চিনি, নারকেল, নুডলস, পেঁয়াজ, সাবান, ডাল, তেল ও নগদ অর্থ উপহার দেওয়া হয়।
উপজেলার অর্ধশতাধিক দরিদ্র পরিবারে এই ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘ফটিকছড়ি প্রতিদিন’ মানেই নতুনত্ব এবং এই মিডিয়ার পরতে পরতে মানুষের প্রকৃত দুঃখ-কষ্টের গল্প উঠে আসে।
সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠান পরিশ্রমী সাংবাদিকতার সাথে ঈদ উপহার প্রদানের মতো মানবিক আয়োজনও যুক্ত করেছে।
যে গতি আর মেধার মিশ্রণে ‘ফটিকছড়ি প্রতিদিন’ এগোচ্ছে, তাতে একসময় এটি সারাদেশের মধ্যেই একটি পরিচিত মিডিয়ায় রূপ নেবে বলেও ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম মন্তব্য করেন।
উপহার পেয়ে খুশি ছাড়িয়ে গেছে জানিয়ে এক বিধবা নারী বলেন, এই উদ্যোগ তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে এবং এসব উপহার ঈদের দিন রান্না করে সন্তানদের মুখে দিতে পারবেন।
এক অসহায় কৃষক বলেন, এভাবে কখনো কেউ কিছু দেয়নি এবং পরিবারে সাত সদস্য নিয়ে অর্ধাহারে থাকা অবস্থায় এই উপহার তাঁদের অনেক উপকারে আসবে।
কোরআনে হাফেজ এক বালক বলেন, গরিবদের পাশে এখনও কিছু ভালো মানুষ দাঁড়ায় বলেই আল্লাহ তায়ালা তাঁদের বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং এই উপহার পেয়ে ঈদের দিন মুখে ভালো খাবার দিতে পারবেন।
ফটিকছড়ি প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, দুই প্রজন্মের সাত সাংবাদিকের শ্রম, বুদ্ধি ও পরামর্শে এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁরা সবসময় দুঃস্থদের পাশে আছেন।
সম্পাদক এস এম আক্কাছ বলেন, ঈদে ধনী-গরিবের সমতায় তাঁদের এই প্রয়াস এবং এটি সবাইকে নিয়ে সবার পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতার একটা চেষ্টা মাত্র।
প্রকাশক সোলাইমান আকাশ বলেন, যাঁরা এই উপহার পেয়েছেন তাঁরা সবাই স্বজন-প্রতিবেশী এবং তাঁদের সারথি হওয়া নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
নির্বাহী সম্পাদক সালাহউদ্দিন জিকু, মাল্টিমিডিয়া সম্পাদক ইউসুফ আরাফাত, বার্তা সম্পাদক ওবাইদুল আকবর রুবেল এবং পরিকল্পনা সম্পাদক কামরুল সবুজও এই আয়োজনে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন জিকু, ইউসুফ আরাফাত, ওবাইদুল আকবর রুবেল এবং কামরুল সবুজ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, তাঁরা চান সমাজের প্রতিটি মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করুক।
তাই প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে এই ক্ষুদ্র চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন জিকু, ইউসুফ আরাফাত, ওবাইদুল আকবর রুবেল এবং কামরুল সবুজ সমাজের ধনাঢ্যদের প্রতিও এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।