
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বৃদ্ধা নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে মিরসরাই পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর জামায়াত কর্মী সাইদুল ইসলাম চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন— মো. আলমগীর, সুফিয়া খাতুন, রোকেয়া আক্তার, সেলিনা আক্তার, ফারহানা আক্তার সুমি এবং মুসলিম উদ্দিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার নাজিরপাড়া এলাকায় বাড়ির সামনে বেঁধে রাখা মো. আলমগীরের একটি গরু প্রতিবেশী মুসলিম উদ্দিন চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় দেখে ফেলায় মুসলিম উদ্দিন ও মো. আলমগীরের পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এরপর মো. আলমগীরদের বাড়ি মনিটরিংয়ের জন্য শনিবার বিকেলে ঘরের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছিল। এ সময় মুসলিম উদ্দিন, তার ভাই সাইদুল ইসলাম এবং তাদের বাবা আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল এসে মো. আলমগীরের মা ও স্ত্রীদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
হামলার শিকার মো. আলমগীরের ভাই মোহাম্মদ হারুন জানান, তাদের বাড়িতে একাধিকবার চুরি ও হামলার ঘটনার কারণে শনিবার বিকেলে ঘরের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছিল।
এ সময় সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ভাই মুসলিম উদ্দিন, বাবা আবুল কাশেমসহ আরও ১০-১২ জনের একটি দল পুরো বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে বলে মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেন।
মোহাম্মদ হারুন আরও জানান, হামলাকারীরা তার রোজাদার স্ত্রী, ভাই, মা ও ভাবিসহ ঘরের সবাইকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ভয়ে কেউ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সাহস পাচ্ছিল না। পরে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিগত কয়েক বছর ধরে সাইদুল ইসলাম তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার কাছে তারা জিম্মি হয়ে আছেন বলেও মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম দাবি করেন, একটি জায়গা নিয়ে মো. আলমগীরদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। ওই জায়গার বিরোধ নিষ্পত্তি না হলেও মো. আলমগীররা তার চাচার ঘরের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাচ্ছিলেন।
সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, ক্যামেরা লাগাতে নিষেধ করলে মো. আলমগীররা তাদের পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা করে এবং তার ভাই মুসলিম উদ্দিনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে মুসলিম উদ্দিনের হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে সাইদুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে, হামলার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মাত্রই সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মিরসরাই পৌরসভার নাজিরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে ওসি ফরিদা ইয়াসমিন আরও জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।