সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাঙামাটিতে জ্বালানি সংকটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৫ মার্চ ২০২৬ | ৭:৩৪ অপরাহ্ন


জ্বালানি তেল সংকটে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে চালকরা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, তবে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল এখনো সচল রয়েছে।

রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে জেলার পাঁচটি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় নৌ পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো কাঠের তৈরি দোতলা লঞ্চ ও স্পিডবোট।

লঞ্চে যাতায়াতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় অধিকাংশ যাত্রী স্পিডবোটে বেশি চলাচল করে থাকেন।

অমর বিকাশ চাকমা নামে এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে বাঘাইছড়ি যাওয়ার জন্য সকালে বের হয়েছিলেন, কিন্তু সকালে মারিশ্যা পিকআপে টিকেট পাননি।

অমর বিকাশ চাকমা আরও বলেন, দুপুরে স্পিড বোটে করে যাওয়ার জন্য ফিসারিঘাটে গিয়ে শোনেন বোট বন্ধ, তাই আজকে আর তিনি যেতে পারলেন না।

কামরুল হাসান নামে আরেকজন যাত্রী জানান, লঞ্চের চেয়ে স্পিডবোটে কম সময়ে যাতায়াত করা যায়, কিন্তু আজকে সকাল থেকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

কামরুল হাসান আরও বলেন, বোট চালকরা বলছেন তেল না থাকায় বোট চলাচল বন্ধ করেছেন।

কামরুল হাসানের লংগদু যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এদিকে দুপুরে আড়াইটার পরে কোনো লঞ্চ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে শহরের আত্মীয়ের বাসায় থাকতে হবে বলে কামরুল হাসান জানান।

রাঙামাটি ফিসারিঘাটের স্পিডবোটের লাইনম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, তারা গতকাল (শনিবার) থেকে তেল পাচ্ছেন না, তাই আজকে (রোববার) সকাল থেকে তারা কোনো বোট চালাতে পারছেন না।

মো. মহিউদ্দিন আরও জানান, তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসন থেকে বনরুপা ফিলিং স্টেশনে স্পিড বোটের জন্য তেল বরাদ্দ রাখতে বলে দেওয়া হয়েছে।

মো. মহিউদ্দিন বলেন, তাদেরকে ফিলিং স্টেশন থেকে বলা হয়েছে আগামীকাল (সোমবার) তেল আসা সাপেক্ষে ২০০ লিটার তেল দেওয়া হবে।

তেল পেলে মোটামুটি ৫টি বোট চলাচল করতে পারবে বলে মো. মহিউদ্দিন উল্লেখ করেন এবং আপাতত আজকে তেলের সংকটে কোনো বোট চলাচল করতে পারেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম জানান, তাদের লঞ্চ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে, তবে পাম্পগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

মঈনুদ্দিন সেলিম আরও বলেন, তাদের কাছে অন্তত ২-৩ দিন চালানোর মতো তেল সংরক্ষণ করে রাখা রয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

নাজমা আশরাফী আরও বলেন, লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলো যেন চলাচল করতে পারে সেজন্য ফিলিং স্টেশনে তেল বরাদ্দ রাখার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।

এই সংকট নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে বলে জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী নিশ্চিত করেছেন।