সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়া পৌরসভার নতুন প্রশাসক কে হচ্ছেন, আলোচনায় চারজন

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ১৬ মার্চ ২০২৬ | ৬:৪৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণির পটিয়া পৌরসভায় প্রায় দুই বছর ধরে মেয়র পদ শূন্য থাকায় এবং কাউন্সিলররা আত্মগোপনে থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া পৌরসভায় নতুন প্রশাসক নিয়োগের গুঞ্জন শুরু হয়েছে, যেখানে সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগরসহ বিএনপির চার নেতার নাম জোরেশোরে আলোচনায় আসছে।

স্থানীয় সরকার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পটিয়া পৌরসভার তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র আইয়ুব বাবুল আত্মগোপনে চলে যান। তাঁকে বরখাস্ত করার পর পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে ফারহানুর রহমান কোনো রকমে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররাও এলাকাছাড়া থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আইয়ুব বাবুল মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নতুন প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পটিয়া পৌরসভাতেও নতুন প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তারা হলেন—পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সওদাগর, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি ও সিআইপি আবুল বশর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব নেতাদের অনুসারীরা তাঁদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।

আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সওদাগর এর আগে পটিয়া পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে পৌরসভা বিএনপির হাল ধরে আছেন। গাজী আবু তাহেরও পৌরসভা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, তৌহিদুল আলম ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কাছাকাছি ভোট পেয়েছিলেন। প্রবাসী নেতা সিআইপি আবুল বশর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিএনপিকে সংগঠিত করার পাশাপাশি পটিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।

প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না, জানতে চাইলে পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সওদাগর জানান, এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রশাসক নিয়োগ হলে তিনি দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেন। নুরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি হাল ধরেছেন, অনেক মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাই দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিআইপি আবুল বশর বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা হিসেবে অবদান রাখায় তিনি সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পটিয়ার সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। সুযোগ পেলে তিনি পটিয়া পৌরসভার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চান বলে জানান সিআইপি আবুল বশর।

১৯৯০ সালে পটিয়া পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর থেকে জাতীয় পার্টির নেতা সামশুল আলম মাস্টার একবার, বিএনপির নুরুল ইসলাম সওদাগর একবার এবং আওয়ামী লীগের অধ্যাপক হারুনুর রশিদ ও আইয়ুব বাবুল যথাক্রমে দুইবার ও একবার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় একজন সার্বক্ষণিক প্রশাসক নিয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার বর্তমান প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, নতুন করে নির্দেশনার কোনো প্রয়োজন নেই। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা-৪২ (ক) মোতাবেক সরকার চাইলে যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারে বলে ফারহানুর রহমান উল্লেখ করেন।