সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মা-মেয়েকে সাজা দেওয়া পেকুয়ার সেই ইউএনও বদলি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৬ মার্চ ২০২৬ | ৯:৫৯ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় বিচারপ্রার্থী মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় সমালোচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুবকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বদলি করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের একই আদেশে বান্দরবানের রুমা উপজেলার বর্তমান ইউএনও এমদাদুল হক শরীফকে পেকুয়া উপজেলার নতুন ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে মা-মেয়েকে নির্যাতনের ওই ঘটনায় ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুবের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন।

জানা গেছে, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিচারপ্রার্থী রেহেনা মোস্তফা এবং তাঁর মেয়ে জুবাইদা বেগমকে পেকুয়া থানায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের শারীরিক নির্যাতনের পর ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জুবাইদা বেগমের আইনজীবী চকরিয়া চৌকি আদালতের অ্যাডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন বলেন, পুলিশ হেফাজতে থাকা আহত মা-মেয়ের ওপর ইউএনও কোনোভাবেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ আইনের ব্যত্যয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, নির্যাতিত রেহেনা মোস্তফা দাবি করেছেন, ঘটনার দিন তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখিই করা হয়নি। অভিযোগ গঠনের কাগজে ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব তাঁর স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন এবং তাঁকে ও তাঁর মেয়ে জুবাইদা বেগমকে ভুয়া সাজা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রেহেনা মোস্তফা।

উল্লেখ্য, পেকুয়া উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব বিভিন্ন সময় নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন। অনৈতিকভাবে রেহেনা মোস্তফা ও জুবাইদা বেগমকে সাজা দেওয়া ছাড়াও প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছিল।